শিরোনাম:
দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৯ জুলাই সচিবালয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন তিনি। হাবিব ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার সন্তান।
সাক্ষাতে জুলাই আন্দোলনে হাবিবুর রহমানের ভূমিকা, তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই আন্দোলনে আহত হাবিবুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চান তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দলের জন্য তোমার যে অবদান, তা দল কখনো ভুলবে না। তুমি যেভাবে দলের জন্য সময়, শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছ, ইনশাআল্লাহ দল তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।’
আন্দোলনের সময়কার শারীরিক যন্ত্রণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তুমি যে যন্ত্রণা নিয়ে আজও বেঁচে আছ, সেই যন্ত্রণা আমিও এখনো বহন করে চলেছি। আল্লাহ আমাদের সবার ত্যাগ কবুল করুন।’ হাবিবুর রহমান জুলাই আন্দোলনের অগ্রসারির একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই শনির আখড়া এলাকায় সংঘর্ষের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
হাবিবুর রহমান জানান, আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান না পাওয়ায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত এখনো তাঁকে শারীরিকভাবে ভোগাচ্ছে। দীর্ঘদিন পরও তিনি বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই অভিশপ্ত জুলাই আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে, যা কোনো কিছুর বিনিময়ে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কীভাবে যে এখন বেঁচে আছি, সেই কষ্ট আমার পরিবার ছাড়া আর কেউ জানে না।’
তিনি বলেন, ‘দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি, রাস্তায় থেকেছি, রক্ত দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, দল আমাদের সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আজ প্রধানমন্ত্রী আমাকে দোয়া করেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং বলেছেন—আমার অবদানের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে।’
হাবিবুর রহমান এর আগে ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য, সহ-অর্থ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।